এক সংগ্রামী মেয়ের গল্প || ইঞ্জিনিয়ারের জীবন সংগ্রাম
অনেককেই বলতে শুনি, ‘ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিস ! ওসব পড়ে আজকাল কিস্যু হয় না। ইঞ্জিনিয়ারদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ইঞ্জিনিয়ারদের জীবন ওই সাইকেলের স্পোকেই আটকে থাকে।’
আচ্ছা, কোনোদিন দেখেছেন আপনি খেতে না পেলে পাড়ার কোনো মানুষ এসে আপনাকে একবেলা খাইয়েছে? কিংবা আপনি অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলে আপনাকে ঔষুধ দিয়ে সাহায্য করেছে? দেখেননি তো? অথচ, আপনি কি করলেন,কি খেলেন তা নিয়ে সমালোচনা করার মানুষের কখনো অভাব হয় না। কিছুদিন আগেই সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে উঠে আসা প্রচার এক তরুণ ফুচকা ব্যবসায়ী রাজেশ ওরফে রাকেশের নাম উঠে এসেছিল সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে।
কিন্তু,আজ আপনাদের যার কথা বলতে চলেছি,তিনি একজন প্রকৌশলী বিভাগের ছাত্রী। হ্যাঁ,একটা বেসরকারি কলেজের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সে পাঠরতা এক তরুণীর জীবন সংগ্রামে উঠে দাঁড়ানোর গল্প। যে মেয়েটা একদিন ডিপ্লোমা শেষ করে উচ্চশিক্ষা হিসেবে বি টেক করে একটা বড়ো বেসরকারি সংস্থার ঝা চকমকে অফিসে চাকরী করার স্বপ্ন দেখতো,তার সফলতার গল্প।
গত বছর লক ডাউনের করাল গ্রাসে আমার আপনার মতো তাঁর ভাতের হাঁড়িতে ও আঁচ পড়েছিল। দাদা যদিও একটা প্রাইভেট ফার্মে কাজ করতেন, তবু বেতন কমে অর্ধেক হয়ে যাওয়ার কারণে মধ্যবিত্তের সংসারে আস্তে আস্তে নেমে আসে ভরাডুবি। ছোট্ট মধ্যবিত্তের সংসার। উপায়ন্তর না পেয়ে অবশেষে বাবার দশ বছর যাবৎ বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা মুদির দোকানকে কেন্দ্র করে ডালপালা প্রসারিত করতে চায় তাঁর স্বপ্নের পাখা। বাড়ির লোকের সাহায্যে নিমেষে মুদির দোকান পরিণত হয় একটা ফুচকার দোকানে। দারিদ্র্যের ধীমে আঁচে জ্বলতে থাকা সংসারে আস্তে আস্তে নেমে আসে শান্তির শীতলতা। কালো অন্ধকার ফিকে হয়ে দেখা যায় হালকা আলোর রেখা।
তবে,এ জার্নি সহজ ছিলো না কোনোভাবেই। গুঞ্জন উঠতে থাকে ধীরে ধীরে। একটা মেয়ে কিনা চালাচ্ছে ফুচকার দোকান? তাও আবার একটা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া মেয়ে ! স্বাভাবিক ভাবেই সবার চোখ উঠে গেল কপালে। কিন্তু ওই যে, স্বপ্ন পূরণ করতে গেলে নাছোড়বান্দা হওয়াটাই একমাত্র অপশন। সেই অপশন কাজে লাগিয়ে আজ সেই তরুণীর স্বপ্নের গাড়ি ছুটে চলেছে।
এখনো অনেকটা পথ বাকি। ছুটতে হবে আরও। ওই যে কথায় আছে, ‘মাইলস্ টু গো বিফোর আই স্লিপ’। সেই টোটকা আবিষ্কার করেই এখন সাফল্যের পথে এই তরুণী। শ’য়ে শ’য়ে উঠে আসুক লড়াকু মেয়েরা। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে সবাইকে। পরিস্থিতি জয় করে পোড় খাওয়া সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে কাজের কোনো জাত হয় না, খিদের কোনো ধর্ম হয় না আর জীবিকার কোনো লিঙ্গ হতে পারে না।





No comments