Attention

আমাদের এই ওয়েবসাইট এ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও এবং পোস্ট দেওয়া হবে এবং গল্প,উপন্যাস,স্ব্যাস্থ সেব সহ আরো অনেক কিছু পোস্ট করা হয়।পাশে থাকবেন ধন্যবাদ

আপনি কি জানেন অন্যায়ভাবে কোন মানুষকে হত্যা করার পরিনাম কতটা ভয়াবহ।


হায় আপসোস আমাদের জন্য!!যদি আমরা জানতাম!!বুঝতাম!!অন্যায় ভাবে কাউকে হত্যা করার পরিণতিটা কি হবে!!!

===============<>==============
কাউকে অন্যায় ভাবে হত্যা করা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। তবে উক্ত হত্যা আরও ভয়ঙ্কর বলে বিবেচিত হয়, যখন তা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয় যাকে বাঁচানো সবার নৈতিক দায়িত্ব এবং যাকে হত্যা করা একেবারেই অমানবিক। যেমন, নবী-রাসুল, নিস্পাপ শিশু, নিজ পিতা-মাতা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী রাষ্ট্রপ্রধান অথবা উপদেশদাতা আলিম।

👉মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন→‘’যারা আল্লাহর আয়াত সমুহকে অস্বীকার করে, নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে,আর যে সব  মানুষেরা ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেয় তাদেরকে যারা হত্যা করে, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।
(সূরা আল ইমরান-২১)
👉আর এরাই হলো ঐসব লোক,আল্লাহ তায়ালা যাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সকল আমল নষ্ট করে দিয়েছেন,এবং সেইদিন(হাশর)তাদের কোন সাহয্যকারী থাকবেনা।(সূরা,আল ইমরান-২২)
==========
অন্যায় ভাবে কাউকে হত্যা করা কবিরা গুনাহ ও তার পরিনতিঃ

আল্লাহ তায়ালা হত্যাকারীকে চির জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তিনি তার উপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। তেমনি ভাবে তার উপর অভিশাপ ও আখেরাতে তার জন্য দ্বিগুন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

👉মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন→‘’আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মুমিনকে হত্যা করে তার শাস্তি জাহান্নাম। যাতে সে স্থায়ীভাবে থাকবে, তার উপর আল্লাহর ক্রোধ ও অভিসম্পাত। আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছেন’’ (সূরা,নিসা আয়াত-৯৩)

👉আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন→ ‘’আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্যকে ডাকে না। আর যথার্থ কারন ছাড়া কোন প্রান হত্যা করে না, যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন এবং তারা ব্যভিচার করে না। আর যে এগুলো করবে সে শাস্তির সাক্ষাৎ লাভ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুন করা হবে আর সে সেখানে লাঞ্ছিত হয়ে চিরকাল বাস করবে। তবে তারা নয় যারা তাওবাহ করবে, ঈমান আনবে আর সৎকাজ করবে। আল্লাহ এদের পাপগুলোকে পুন্যে পরিবর্তন করে দিবেন; আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু’’(সূরা ফুরকান৬৮-৭০)
============
হত্যার ভয়াবহতার কারনে আল্লাহ তায়ালা শুধুমাত্র এক ব্যক্তির হত্যাকারীকে সকল মানুষের হত্যাকারী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন👇

👉মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন→এ কারনেই আমি বানী ইসরাইলের জন্য বিধান দিয়েছিলাম, যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা কিংবা জমিনে সন্ত্রাস সৃষ্টির কারন ব্যতীত কাউকে হত্যা করবে সে যেন গোটা পৃথিবীর মানুষকেই হত্যা করল; আর যে কোন মানুদের প্রান বাঁচালো, সে যেন গোটা পৃথিবীর মানুষকেই বাঁচালো। তাদের কাছে আমার রাসুলগন সুস্পষ্ট প্রমান নিয়ে এসেছিল, এরপরও তাদের অধিকাংশই পৃথিবীতে বাড়াবাড়ি করেছিল’’(সূরা মায়িদাহ- ৩২)
=============
হত্যা অন্যতম সর্ববৃহৎ গুনাহ সমূহের একটিঃ

👉আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সাঃ) বলেছেন→’কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ হচ্ছে, আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, প্রান হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া আর মিথ্যা বলা, কিংবা বলেছেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া’’ (বুখারী ৬৮৭১; মুসলিম ৮৮)
==========
কিয়ামতের দিন মানবাধিকার সম্পর্কে সর্বপ্রথম হত্যার বিচার করা হবে👇

আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ (কিয়ামতের দিন) মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম হত্যার বিচার করা হবে’’
(বুখারী ৬৫৩৩; মুসলিম ১৬৭৮)
============
হত্যাকারীর ক্ষমা পাওয়ার আশা খুবই ক্ষীণঃ
                                 👇

আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যেসব বিষয়ে কেউ নিজেকে জড়িয়ে ফেলার পরে তার ধ্বংস থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় থাকে না, সেগুলোর একটি হচ্ছে, হালাল ছাড়া হারাম রক্ত প্রবাহিত করা (অর্থাৎ অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা)
(বুখারী ৬৮৬৩)

👉আবুল হাকাম আল-বাজালী (রহঃ) বলেন, আমি আবু সাইদ খুদরি ও আবু হুরায়রাহ (রাঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’আসমান-জমিনের মধ্যে বসবাসকারী সকলে একত্রে মিলিত হয়েও যদি একজন মুমিনকে হত্যা করার কাজে শরীক থেকে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাদের সকলকে উপুর করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন’’ (তিরমিযি ১৩৯৮ (আলবানি সহীহ বলেছেন)

👉মুয়াবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ প্রতিটি গুনাহ আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন। তবে দুটি গুনাহ যা আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন না। আর তা হচ্ছে, কোন মানুষ কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে অথবা ইচ্ছাকৃত ভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করলে’’
(নাসায়ী ৩৯৮৪; আহমাদ; হাকিম ৪/৩৫১)
===========
👉হত্যা করা কুফুরির অন্তর্ভুক্ত👇

আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,  রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসেকী এবং তাকে হত্যা করা কুফুরি’’
( বুখারী ৬০৪৪)

👉জারির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বিদায় হজ্জের সময় নবী (সাঃ) বলেছেনঃ আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান কাটাকাটি করে কাফির হয়ে যেও না’’( বুখারী ১২১)
=========
👉মুমিন ব্যক্তিকে হত্যা করা সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী👇

👉আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ আল্লাহর নিকট পৃথিবী ধ্বংস হওয়াটা অধিকতর সহজ ব্যাপার একজন মুসলিম খুন হওয়ার পরিবর্তে’’ (তিরমিযি ১৩৯৫ (আলবানি সহীহ বলেছেন)
============
নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীকে সঙ্গে নিয়ে কিয়ামতের মাঠে উপস্থিত হবে👇

👉ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাঃ) বলেনঃ ‘’ কিয়ামতের দিন হত্যাকারী তার মাথার সাথে নিহত ব্যক্তির মাথা লটকানো অবস্থায় উপস্থিত হবে। নিহত ব্যক্তি বলবে, হে প্রভু! তাকে জিজ্ঞেস করুন, সে কেন আমাকে হত্যা করেছে?’’
( ইবন মাযাহ ২৬২১ (আলবানি সহীহ বলেছেন)
===========
হত্যাকাণ্ডে উৎসাহ দানকারী ব্যক্তির আমলনামায় হত্যার পাপের একটা অংশ যোগ হবে👇

👉মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন→ ‘’যার ফলে কিয়ামত দিবসে তারা বহন করবে নিজেদের পাপের বোঝা মাত্রায়, আর তাদেরও পাপের বোঝা যাদেরকে তারা গুমরাহ করেছে, নিজেদের অজ্ঞতার কারনে। হায়! তারা যা বহন করবে তা কতইনা নিকৃষ্ট’
( সূরা নাহল আয়াত-২৫)

👉আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’যে কোন ব্যক্তিকে অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয়, তার পাপের ভাগ আদম (আঃ)-এর প্রথম (হত্যাকারী) পুত্রের উপরও বর্তাবে। কারন সে-ই প্রথমে হত্যার রীতি চালু করে’’( বুখারী ৭৩২১)

🙏মহান আল্লাহ অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হতে ও কাউকে হত্যায় উদ্বুদ্ধ করা হতে আমাদেরকে বিরত থেকে তোমার জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত কর। আমীন।🙋

No comments

Theme images by RASimon. Powered by Blogger.